চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) নগরীর জিইসি মোড় ও আনোয়ারা উপজেলায় পৃথক দুটি মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলগুলোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মিছিলকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকালে নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিপরীত পাশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জিইসি মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ’ লেখা ছিল।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এর আগেই মিছিলকারীরা সরে পড়ে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একই দিন সকালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাতেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরেকটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার পিএবি সড়কের শশী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলটি বের করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কর্মী রবিউল হায়দারের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক মাথায় হলুদ টুপি পরে ব্যানার নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের সামনে সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত একজনকে দেখা যায়।
মিছিলে বহন করা ব্যানারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ‘রাজবন্দীদের’ মুক্তি এবং দেশব্যাপী শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি উল্লেখ ছিল।
এ বিষয়ে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মিছিলের বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিনে নগরী ও উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পৃথক দুটি মিছিলের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।