গ্রামের নাম এখন ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’। ছবি : সময়ের আলো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের লস্কর মৌলভীপাড়া এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘আর্জেন্টিনা পাড়া’ নামে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে পুরো এলাকাজুড়ে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের পতাকা টাঙিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী তরুণরা।
চারদিকে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ও গ্রামীণ পরিবেশে ঘেরা লস্কর মৌলভীপাড়ার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে টাঙানো হয়েছে ১৫০টি আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের পতাকা। বাতাসে উড়তে থাকা আকাশি-সাদা ও লাল-সবুজের সমারোহ দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
আগামী ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা নিজেদের উদ্যোগে এ আয়োজন করেছেন। আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. এনামুল হক জানান, বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মোট ১৫০টি পতাকা, ব্যানার এবং খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এ কাজে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, যা স্থানীয় সমর্থকরাই নিজেদের অর্থায়নে বহন করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ও হাতে পতাকা নিয়ে সমর্থকদের অংশগ্রহণে বের করা হয় র্যালি। ছোট-বড় সবার উপস্থিতিতে পাড়া জুড়ে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ।
আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্য নাজিম উদ্দীন, সোহেল, আনিছ ও কামরুল বলেন, ফুটবল তাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আবেগ, ভালোবাসা ও একতার প্রতীক। সেই অনুভূতি থেকেই তারা এই আয়োজন করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লবণ চাষনির্ভর এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনের সঙ্গে ফুটবল দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে। বিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাদের ভালোবাসা নতুন করে প্রকাশ পায়। বিশেষ করে লিওনেল মেসির প্রতি সমর্থকদের আবেগই এই আয়োজনের অন্যতম অনুপ্রেরণা।
এনামুল হক বলেন, ভবিষ্যতেও খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এমন ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চান তারা।
স্থানীয়রা জানান, এই আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো আর্জেন্টিনার পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও সমান গুরুত্ব দিয়ে টাঙানো হয়েছে। এতে ফুটবলপ্রেমের পাশাপাশি দেশের প্রতি ভালোবাসারও প্রকাশ ঘটেছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতি চার বছর পরপর বাংলাদেশে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, লস্কর মৌলভীপাড়ার এই উদ্যোগ তারই একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ। বিশ্বকাপের পর্দা উঠলে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পতাকাগুলো আরও বেশি উচ্ছ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
আরবিএন