নিত্যদিনের খাবার হিসেবে পাউরুটি আমরা বহুল ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু, অনেক বেকারিই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পাউরুটি তৈরি করে না। বিশেষ করে পাউরুটিতে মেশানো পটাশিয়াম ব্রোমেট স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে, ক্ষতিকর পাউরুটির বিকল্প কী?
ঘরে তৈরি আটার রুটি
পাউরুটির পরিবর্তে লাল আটা বা গমের রুটি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ঘরে তৈরি রুটিতে কোনো ধরনের কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না। বরং এতে থাকে প্রচুর ফাইবার, যা দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে এবং হজম ভালো করতে সাহায্য করে। আটার সঙ্গে অল্প পরিমাণ ওটস বা তিল মিশিয়ে নিলে রুটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়। এর সঙ্গে ডাল, ডিম বা সবজি খেতে পারেন। তেল কম ব্যবহার করলে তা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত হয়।
সালাদ ও শাকসবজির র্যাপস
বড় আকারের লেটুস বা বাঁধাকপির পাতা দিয়ে বার্গার বা স্যান্ডুইচের মতো রোল তৈরি করতে পারেন। ভেতরে চিকেন, পনির, ডিম বা সবজি দিয়ে খুব সহজেই পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের খাবারে ক্যালরি কম হলেও ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং হজমেও সহায়ক।
লাল চালের চিঁড়া ও মুড়ি
আমাদের দেশীয় ও সহজলভ্য খাবারের মধ্যে লাল চালের চিঁড়া বা মুড়ি অন্যতম। দই, কলা অথবা দুধের সঙ্গে তা মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি সারাদিনের শক্তির জোগান দেয়।
মিষ্টি আলুর স্লাইস
মিষ্টি আলু সেদ্ধ বা হালকা গ্রিল করে তার ওপর পিনাট বাটার, ডিমের পোচ বা সামান্য মধু দিয়ে দিয়ে খাওয়া যায়। এটি পাউরুটির চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। মিষ্টি আলু বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে জনপ্রিয় খাবার। এটি দীর্ঘসময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ডিমের রোল বা অমলেট
অনেকেই সকালের নাস্তায় পাউরুটি দিয়ে ডিম খান। কিন্তু পাউরুটি বাদ দিয়ে সরাসরি ডিম ও সবজি দিয়ে রোল বা অমলেট তৈরি করলে তা আরও বেশি স্বাস্থ্যকর হয়। ডিমে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে। এর সঙ্গে গাজর, ক্যাপসিকাম, টমেটো, পেঁয়াজ বা পালং শাক যোগ করলে তা আরও স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু হয়।
ওটস ও ওটস প্যানকেক
সকালের নাস্তায় পাউরুটির দারুণ বিকল্প হতে পারে ওটস। এটি ফাইবার ও পুষ্টিতে ভরপুর। সাধারণ ওটস দুধ বা দইয়ের সঙ্গে খাওয়া যায়। আবার ডিম, কলা ও সামান্য দারুচিনি মিশিয়ে ওটস প্যানকেক তৈরি করলেও তা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হয়।
ফল ও বাদামের কম্বিনেশন
আপেল, কলা, খেজুর বা পেঁপের সঙ্গে কাঠবাদাম বা চিনাবাদাম খেলে তা শক্তি ও পুষ্টি দুটোই দেয়।
দই ও ফল
চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে মৌসুমি ফল মিশিয়ে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই শুধু স্বাদ বা সুবিধার জন্য নয়, খাবারের পুষ্টিগুণ ও নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত পাউরুটির পরিবর্তে দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিলে শরীর সুস্থ থাকবে।
/মহু