ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
মঙ্গলবার (২ জুন) লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে আল জাজিরা জানায়, নাবাতিয়া প্রদেশের জেবচিত শহরের একটি নার্সারিতে ইসরায়েলি হামলায় কর্মরত দুই সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এছাড়া তুল শহরের শহিদ সাবরা সড়কে একটি মোটরসাইকেল এবং আনসার এলাকার ধিয়াত আল-আরব মহল্লায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় নাবাতিয়া এলাকায় একটি গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলোর আগে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষ হামলা কমাতে সম্মত হয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে আর হামলা চালাবে না এবং ইসরায়েলি বাহিনীও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বন্ধ করবে।
তবে সমঝোতার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যদিও ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলার দায় স্বীকার করেনি হিজবুল্লাহ।
এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় আশা প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই চিরতরে বন্ধ হবে। তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও ভালো আলোচনা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতের ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালাবে ইসরায়েল।
সময়ের আলো/আআ