সাইকেল এমন একটি বাহন, যার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অনেকের শৈশবের স্মৃতি। কারো কারো কাছে এটি সংগ্রামের সঙ্গী, স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার। মানুষের সেসব বাস্তব গল্পের সাইকেল বারবার পর্দায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছে, নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা।
বাইসাইকেল থিফস
সাইকেল নিয়ে নির্মিত সিনেমার কথা ভাবলে সবার আগে বাইসাইকেল থিফসের কথাই বোধহয় মনে পড়ে সবার। ১৯৪৮ সালে নির্মিত এই ইতালীয় সিনেমাকে বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সিনেমার কাহিনি নেওয়া হয়েছে লুইজি বার্তোলিনির ‘বাইসাইকেল থিভস’ উপন্যাস থেকে। পরিচালক ভিত্তোরীয় ডি সিকা যুদ্ধ পরবর্তী ইতালির অর্থনৈতিক সংকটকে তুলে ধরেছেন সিনেমাটির মাধ্যমে।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আন্তোনিও একটি চাকরি পান, কিন্তু কাজটি করার জন্য প্রয়োজন হয় সাইকেলের। সাইকেল তিনি জোগাড় করেও ফেলেন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এরপর ছোট্ট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শহরজুড়ে সাইকেল খুঁজতে থাকেন। এই খোঁজার যাত্রা, তাদের জীবনের নির্মম বাস্তবতা দর্শকের চোখ ভিজিয়ে দেয়। একটি সাধারণ সাইকেল কীভাবে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার প্রশ্নে পরিণত হতে পারে, সেটিই সিনেমাটির মূল গল্প।
ওয়াজাদা
সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইফা আল মনসুর পরিচালিত এই সিনেমা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। ওয়াজাদা নামের এক কিশোরী সবুজ রঙের একটি সাইকেল কিনতে চায়। কিন্তু তার সমাজে মেয়েদের সাইকেল চালানোকে ভালো চোখে দেখা হয় না। তাই নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়।
এ সিনেমায় সাইকেল শুধু খেলনা নয়; এটিকে স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশ এবং সামাজিক বাধা ভাঙার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দ্য কিড উইথ এ্যা বাইক
বেলজিয়ান নির্মাতা জ্যঁ-পিয়ের ও লুক ডারডেন পরিচালিত এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিরিল নামের এক কিশোর। অনাথ আশ্রমে থাকা সিরিল তার বাবাকে খুঁজে ফেরে। তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো একটি সাইকেল। এই সাইকেলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে তার আবেগ, নিরাপত্তাবোধ এবং পৃথিবীকে নতুনভাবে চিনে নেওয়ার যাত্রা। সিনেমাটি মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরে।
ব্রেকিং অ্যাওয়ে
সাইকেল রেসিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা এটি। এর পরিচালক ও প্রযোজক পিটার ইয়েটস। যুক্তরাষ্ট্রের একদল তরুণের জীবন, স্বপ্ন এবং পরিচয় সংকটকে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে।
ছবির নায়ক ইতালীয় পেশাদার সাইক্লিস্টদের অনুসরণ করতে গিয়ে নানা হাস্যরসাত্মক ও আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প হিসেবে সিনেমাটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
দ্যা ট্রিপলেটস অব বেলভিল
ফরাসি অ্যানিমেশন জগতের এক অসাধারণ সৃষ্টি এ সিনেমা। এখানে এক কিশোর সাইক্লিস্টকে অপহরণ করা হলে তার দাদি মাদাম সুজা তাকে উদ্ধারে নামেন। গল্পটি যতটা রহস্যময়, ততটাই কল্পনাপ্রবণ। সিনেমাটিতে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা, পারিবারিক ভালোবাসা এবং অদ্ভুত সব চরিত্র মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সাইকেল মানুষের জীবনের খুব কাছের একটি বস্তু। বিশ্বজুড়ে নির্মাতারা এই প্রতীককে ব্যবহার করেছেন দারিদ্র্য, স্বপ্ন, শৈশব, প্রেম, স্বাধীনতা ও সামাজিক পরিবর্তনের গল্প বলার জন্য। সেই কারণেই পর্দায় সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আজও দর্শকদের মনে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
/মহু