ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর বাজার এলাকায় ভারতীয় চোরাই পণ্য আটককে কেন্দ্র করে বিজিবি ও চোরাকারবারি চক্রের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি হলুদ রঙের পিকআপে করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য নয়নপুর বাজার এলাকায় আনা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পিকআপটি আটক করলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক পণ্যকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা দাবি করেন, তাদের আনা মালামাল বৈধ এবং এগুলো চোরাই পণ্য নয়। অন্যদিকে বিজিবি সদস্যরা পণ্যগুলোকে ভারতীয় চোরাই মালামাল বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছে বিজিবি। বাহিনীটির দাবি, চোরাকারবারি চক্রের লোকজন নিজেরাই তাদের গাড়ির গ্লাস ও অন্যান্য অংশ ভাঙচুর করে বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত আটক পিকআপ ও মালামাল ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতানপুর ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম এম শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় চোরাই পণ্যবাহী একটি হলুদ পিকআপ নয়নপুর বাজার এলাকায় আটক করে। পরে চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল। সেখানে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল। রক্তপাত ও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর স্বার্থে পিকআপ ও মালামাল ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিজিবি।’
/কেআই