দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের অন্তত ১০টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বিজিবি।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ নানা কৌশলে পুশইনের চেষ্টা চালায়, যা বিজিবির সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে ৪-৫ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাতে বাধা দেয়। এতে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। অন্যদিকে, মহেশপুরেরই সামন্তা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে এনে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এছাড়া, খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন নারী-পুরুষকে বিজিবির কঠোর তৎপরতায় বিএসএফ সরিয়ে নেয়।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জনকে জড়ো করে পুশইনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও সতর্কতায় এই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে (৫৩ বিজিবি) ভারতের 'SIR' তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ জন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে রাখার খবর পেয়ে সেখানেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে (১৮ বিজিবি) বিএসএফ কর্তৃক ১ জন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটকে বিজিবিকে জানায়। পরবর্তীতে বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
অন্যদিকে, সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় নাগরিককে স্থানীয়রা আটকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ভারতে পুশব্যাক করা হয়।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার চন্দনপার্ক নামক স্থানে একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য মিলেছে।
এছাড়া নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা হয়েছে। সীমান্তের ওই অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বিজিবি সেখানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে রাখলেও এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যে-কোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি