কুমিল্লা বিমানবন্দর সংলগ্ন ১৩টি গ্রামের দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এই ঝটিকা অবরোধের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টার এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে তীব্র গরমে দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহণ চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কের পদুয়ার বাজার অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মুহূর্তের মধ্যে ওই অঞ্চলের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে মহাসড়ক ছাড়লেও তারা পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার ভূমির প্রকৃত মালিকানা, খাজনা-কর আদায় এবং ঐতিহ্যগত চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছে। ইতঃপূর্বে একাধিকবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো স্থায়ী আইনি সমাধান না মেলায় নিরুপায় হয়ে তারা আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মহাসড়কে অবরোধ চলাকালে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের বৈধ মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় গ্রামবাসীদের চলাচলের প্রধান রাস্তাও হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোনো অন্যায় দাবি করছি না, আমরা কেবল আমাদের ন্যায্য অধিকার ও চলাচলের স্বাধীনতা ফিরে পেতে চাই।’
ব্রিটিশ আমলের খতিয়ান ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির নথিপত্র উল্লেখ করে শাহাদাত নামের আরেক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, ‘পৈতৃক সূত্রে পাওয়া নিজেদের জমিতে থাকার পরও আমরা কেন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে অযৌক্তিকভাবে কর দেব? আমরা এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান চাই।’ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে এই ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবরোধের পর মহাসড়কের পরিস্থিতি ও সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে অবরোধ তুলে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সময়ের আলো/জেডি