নাটোর সদর উপজেলার মদনহাট গ্রামে ৫ বছরের এক শিশু রোগীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ফুচকা ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের (৪৫) ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে শহরের কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা এই পাশবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি পাঁচ বছরের অবুঝ শিশুর ওপর এমন পাশবিকতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজ থেকে এই ধরনের বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন অপরাধীদের নির্মূল করতে হবে।’ বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নাটোর সদর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার মদনহাট পূর্ব পাড়া এলাকায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। বিকেলে নানির সাথে মাঠে ঘাস কাটতে গেলে নির্জন স্থানে একা পেয়ে স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতা ও মো. আব্বাস আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শরিফুলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং সে বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া জোরালোভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।’
সময়ের আলো/জেডি