ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহাসিক পীরডাঙ্গী গোরস্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার গাড়ি করে প্রতিদিন পুরো শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে গোরস্তানের মাঝখানে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পীরডাঙ্গী গোরস্থানের মাঝখানে কয়েক মাস ধরে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। অথচ, পৌরসভার প্রায় ২শ গজ উত্তরে সরকারি সরকারি কলে ও ৪ তলা ছত্রাবাস, এস আই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ। দক্ষিণে পীর সিরাজউদ্দীন আওলিয়ার মাজার ও সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ পাকা সড়কের সিনেমা হল এলাকা থেকে উত্তরে একটি কাচা রাস্তা গোরস্তানের ভেতর দিয়ে সরকারি কলেজ এবং মাদ্রাসায় গিয়ে উঠেছে। এ কাচা রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করে। তাদেরকে নাকে কাপড় দিয়ে ভাগাড় এলাকা পার হতে হয়। তা ছাড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হতে হয় কবর জিয়ারত বা লাশ দাফনের জন্য গোরস্তানে আসা মুসল্লী সাধারণ এবং কবরবাসীর আত্মীয় স্বজনদের। বিশেষ করে গত কোরবানির পশুর বর্জ্যও এ ভাগাড়ে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশ আরও খারাপ হয়েছে।
সিপিবির উপজেলা সভাপতি প্রভাত সমীর অভিযোগ করেন, গোরস্তানের ভেতরে ময়লা ভাগাড় এটা কল্পনা করা যায় না। আমার পূর্ব পূরুষের কবর রয়েছে সেখানে। দুর্গন্ধের কারণে শান্তিতে কবর জিয়ারত করতে পারি না। বিষয়টি পৌর প্রশাসককে জানিয়েছি। কাজ হয়নি। গোরস্তানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব পৌরসভার, অথচ পৌরসভাই সেখানে ময়লা ফেলছে।
সুমি নামে সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, শহরের যানজট এড়িয়ে গোরস্তানের ভিতর দিয়ে কলেজে যাওয়ার রাস্তার পাশেই ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে যাওয়া যায় না।
এ্যাড. আবু সায়েম জানান, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো ধর্মীয় স্থান বা কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করা, সেখানে অনধিকার প্রবেশ বা ক্ষতিসাধন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া দেশের প্রচলিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ীও উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ। এখানে পৌরসভা নিজেই কীভাবে আইন লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন গোরস্তানে বর্জ্য ফেলছে, তা বোধগম্য নয়।
কবরস্থানে ময়লা ফেলা বিষয়ে পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, আমি এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই ওই স্থানটিতে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। তবে, বর্তমানে ময়লা যেন কোনোভাবেই কবরের ওপর গিয়ে না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে করার জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে একটি চাইনিজ প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও জেলা পরিদর্শনে আসবেন। তারা এলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হবে এবং তখন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে।’
/মহু