নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (৩ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফয়জুল মিয়া উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বেহাকৈর এলাকার ফোছন আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক সজিবসহ সংশ্লিষ্টরা কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। পরে লাশটি হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্ত্রী মাসুদা বেগম জানান, স্বামীকে মাদকের আসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তিনি এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছিলেন। ঈদের পরদিন তিনি স্বামীর জন্য খাবার দিয়ে আসেন। বুধবার রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তার অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনের কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রটির আড়ালে মাদক ব্যবসাও পরিচালিত হতো।
ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মেঘনা উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে শাহিন এবং সাতভাইয়াপাড়া গ্রামের হেলালের ছেলে সানি। আহত অপর তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা আহত সানি অভিযোগ করেন, পানাম-গাবতলী এলাকার ইসমাইলের ছেলে রকি, জিয়ানগর গ্রামের হানিফ এবং কেন্দ্রের পরিচালক রকির শ্যালক উজ্জ্বলসহ কয়েকজন রাতভর লোহার পাইপ দিয়ে তাদের মারধর করেন। এতে তিনি ও অন্যরা আহত হন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনার পর পুলিশ নিরাময় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের ফলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরবিএন