ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি শিট কাটিং কারখানার টং ঘর থেকে বাবু (৬০) নামে এক বৃদ্ধের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকায় মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের নজরে আসে ঘটনাটি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী গোলচত্বর এলাকার দীন ফার্নিচার ভবনের পেছনে অবস্থিত একটি শিট কাটিং গোডাউনের তিনতলার টং ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার লোকজন দুর্গন্ধ টের পাচ্ছিলেন। পরে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে টং ঘরের ভেতরে বাবুর মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।
জানা গেছে, নিহত বাবু দীর্ঘদিন ধরে কদমতলী এলাকায় পান-সিগারেটের ছোট একটি দোকান চালাতেন। রাতে তিনি কারখানার ওই টং ঘরেই থাকতেন। স্ত্রী-সন্তানহীন এই ব্যক্তি মূলত পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসা বিহারী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে কারখানা বন্ধ থাকলেও তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, বাবুর কাছে সবসময় কিছু নগদ টাকা থাকত। এ কারণে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কারখানার মালিক গজারী সামসু বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। কারখানায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি।
আরবিএন