বরগুনার আমতলীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
গভীর নলকূপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি কার্ড, বিধবা, বয়স্ক ও মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার জসিম মিয়াসহ ১০ জন ভুক্তভোগী আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত নারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছরে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধাই কাউকে দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করার পর গত এক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তারা থানার দ্বারস্থ হন।
ভুক্তভোগী জসিম মিয়া বলেন, গভীর নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এক বছর পার হলেও কোনো নলকূপ পাইনি। এখন টাকা চাইলে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।
রুস্তম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম অভিযোগ করেন, গভীর নলকূপ স্থাপনের আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি; উল্টো এখন টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।
পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম বলেন, ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলাম।
মাহিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ঋণ করে টাকা দিয়েছি। এখন না কার্ড পাচ্ছি, না টাকা ফেরত পাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, জাকিয়া সুলতানা নামে কোনো নারী কখনো উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না এবং বর্তমানে এমন কেউ নেই। কেউ যদি সমাজসেবা অফিসের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত নারী এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবিএন