পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক দুই দিন আগে নিজের রাজধানীর স্থায়ী ঠিকানার বাসায় এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বড় ধরনের চুরির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফারুক এবং তার স্ত্রীসহ মোট তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৪ (জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মামলার কাগজ, ভাঙা আলমারি ও আসামিদের ছবি প্রকাশ করে সেদিনের চুরির নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য ও নিজের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন এই তারকা।
ফেসবুক পোস্টে নায়িকা ববি গভীর হাহাকার প্রকাশ করে লেখেন, চোরকে সাধারণ চোর ভাবার কোনো সুযোগ নেই, এরা মূলত সংঘবদ্ধ, পরিকল্পিত এবং অত্যন্ত পেশাদার অপরাধী। ঈদের আনন্দ তার জীবনে গভীর কষ্ট হয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ঈদের মাত্র দুই দিন আগে তার বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তার প্রয়াত বাবার ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে দেওয়া প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং বেশ কয়েকটি মূল্যবান ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি চুরি হয়ে যায়।
ববি লেখেন, আল্লাহর রহমতে প্রধান অভিযুক্ত আসামি ফারুক ও তার স্ত্রী গ্রেফতার হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও বাবার স্মৃতি জড়ানো অধিকাংশ সম্পদ এখনও উদ্ধার না হওয়ায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন বাকি জিনিসগুলো দ্রুত ফিরে পান এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
পুলিশের তদন্ত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার পূর্ব মনিপুরে ববির স্থায়ী ঠিকানার বাসায় এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে। শুটিংয়ের কাজে গত ২৫ মে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা ববি এবং পরদিন ২৬ মে রাতে তার গৃহপরিচারিকা মোবাইল ফোনে কল করে তাকে চুরির বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে ববি দ্রুত বাসায় ফিরে দেখতে পান, তার বেডরুমের জানালা এবং বারান্দার দুটি গ্রিল কাটা অবস্থায় রয়েছে এবং ভেতরের আলমারি ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। ববির বাসা থেকে চুরি হওয়া মালামালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুট হওয়া সামগ্রীর তালিকায় ছিল ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, ১০ লাখ টাকা মূল্যের সাত জোড়া কানের দুল, ৩টি দামী নেকলেস, ৮টি লকেট, ১২টি চেইন, আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৭টি ডায়মন্ডের নাকফুল, ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি নামী ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি এবং নগদ ৬ লাখ টাকা।
এই চুরির ঘটনার পর রাজধানীর কাফরুল থানায় ববি নিজে বাদী হয়ে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলা প্রাপ্তির পর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং আংশিক স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবে বাকি নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ