জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেধা শংকর। ‘টুয়েলভথ ফেল’ মুক্তির পর রাতারাতি দর্শকের নজরে আসেন তিনি। তবে এ অর্জন এক দিনে আসেনি। দীর্ঘ সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা আর পরিবারকে বোঝানোর লড়াই পেরিয়েই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ে হলে কেউই সুখী হবে না।’
সম্প্রতি নবভারত টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার, পরিবার, ব্যর্থতা, বিয়ে ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।
মেধা জানান, ইন্ডাস্ট্রির বাইরের একজন মানুষ হওয়ায় শুরুতে সব সময় একটা অনিশ্চয়তা কাজ করত। এরপর কাজ পাবেন কি না, তা নিয়েও ভয় ছিল। অনেকেই তাকে নানা পরামর্শ দিতেন—কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়। তবে একটা সময় তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত হিসাব করে লাভ নেই। তাই এখন তিনি নিজের ভালো লাগার কাজই বেছে নেন।
তিনি বলেন, ‘যতই মাথা খাটাই না কেন, যা হওয়ার তা–ই হবে। তাই অনেক বিষয় ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিই।’
মেধার পরিবার মূলত শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সবাই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলেও তিনিই একমাত্র বাণিজ্য বিভাগে পড়েছিলেন। তার বাবা আইআইটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। ফলে মেয়ের অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত প্রথমে সহজভাবে নিতে পারেননি। তার ধারণা ছিল, যারা পড়াশোনায় দুর্বল, তারাই অভিনয়ে আসে।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। মেধা জানান, শুরুতে মা ও ভাই পাশে থাকলেও পরে বাবাই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় সহায়। অডিশনে যাওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি মেয়ের সঙ্গে থেকেছেন। মেয়ের একাগ্রতা দেখেই ধীরে ধীরে তার আস্থা তৈরি হয়।
অভিনয়জীবনের শুরুর সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। নিয়মিত অডিশন দিচ্ছিলেন, কিন্তু কাজ আসছিল না। করোনাকালে সঞ্চয়ও প্রায় শেষ হয়ে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন তরুণী হিসেবে নিজের অর্থনৈতিক অস্বস্তি তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিত। তবে সেই কঠিন সময় তাকে টিকিয়ে রেখেছিল আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তা। মেধার উপলব্ধি, ‘আপনি সফল না হওয়া পর্যন্ত কেউ আপনার ওপর আস্থা রাখবে না। টুয়েলভথ ফেল-এর আগে আমার প্রতিভা ছিল না, এমন নয়। কিন্তু তখন কেউ বিশ্বাস করত না।’
তার বিশ্বাস, শুধু সমাজ বা আত্মীয়স্বজনের চাপে বিয়ে করা উচিত নয়। একজন মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না এবং সঠিক মানুষটিকে পেয়েছেন কি না—সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ে হলে কেউই সুখী হবে না।’
/কেএইচও