চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
পুতিনকে উদ্দেশ করে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইউক্রেনীয় নেতা উল্লেখ করেন, ইউরোপের এই যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বরাজনীতি বা যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকা একেবারেই অনুচিত হবে। বরং ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি আলোচনা চলাকালীন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও এর আগেই মস্কো এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এমন একটি বৈঠক হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হবে এবং তিনি একে স্বাগত জানান। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিত অবহিত করা হবে।
জেলেনস্কির এই চিঠির সুর ছিল বেশ আক্রমণাত্মক ও কিছুটা উপহাসমূলক। চিঠিতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুতিনকে খোঁচা দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে এখন পুতিনের ওপর বয়সের চাপ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি পুতিনকে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়ে সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে সরাসরি বৈঠকে বসার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
কিয়েভের পক্ষ থেকে এই চিঠিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়েছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে ইরান সংকটের দিকে মনোনিবেশ করে আছে। তাই ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদেরই উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করেন জেলেনস্কি।
এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়া পুতিন এই খোলা চিঠির বিষয়বস্তু সরাসরি দেখার আগেই সাংবাদিকদের জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত, তবে সে ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে নির্দিষ্ট কিছু ভূখণ্ড ত্যাগসহ ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্ত মেনে নিতে হবে। ইউক্রেন অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে পুতিন জেলেনস্কির দেশের শাসনতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তোলেন। এর বিপরীতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, জেলেনস্কি চাইলে যেকোনো সময় আলোচনার জন্য মস্কো আসতে পারেন। তবে জেলেনস্কি তার চিঠিতে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মস্কো বা কিয়েভে কোনো বৈঠক হবে না, বৈঠক হতে হবে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা এই খোলা চিঠিকে যুদ্ধ থামানোর একটি অত্যন্ত আন্তরিক ও অর্থপূর্ণ প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়াদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ৫ বছরে পদার্পণ করা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এই চিঠি একটি নতুন কূটনৈতিক মোড় এনে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
/কহু