উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে আতিথেয়তা দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এবার উত্তর কোরিয়া সফরে

2026-06-05T10:08:04+00:00
2026-06-05T10:08:04+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ এএম   (ভিজিট : ২২)
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে আতিথেয়তা দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এই বিরল রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

গত শুক্রবার চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এবং উত্তর কোরিয়ার কেসিএনএ এই সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ২০১৯ সালের পর উত্তর কোরিয়ায় এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর এবং একই সঙ্গে চলতি বছরে এটি তার প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছিল।

এরপর থেকে আন্তর্জাতিক নেতাদের বেইজিং সফরের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। চলতি ২০২৬ সালেই চিনা প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে ১৭ জন বিশ্ব নেতাকে আতিথেয়তা দিয়েছেন এবং চলতি সপ্তাহে লাওসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

শি জিনপিং ও কিম জং উনের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে, যখন বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি সামরিক প্যারেডে পুতিনের পাশাপাশি কিমও অন্যতম সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তবে আগামী সপ্তাহের এই সফরটি শি জিনপিংয়ের জন্য বিশ্ব রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার আরেকটি বড় সুযোগ। চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, দুই দেশের এই কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ করে এই সফরের সময়কাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে, ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে চিনা প্রেসিডেন্ট কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছেন কি-না। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প কিমের সঙ্গে তিনবার দেখা করলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের আলোচনা এক পর্যায়ে ভেস্তে যায়। তবে ট্রাম্প বরাবরই এই কূটনীতি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময়ও দুই নেতার মধ্যে কোরিয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার এই স্থবিরতার মাঝেই উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে গেছে। এমনকি চলতি সপ্তাহেই কিম জং উন নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা পরিদর্শন করে দেশের পারমাণবিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। কিম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পূর্বশর্ত ত্যাগ করে, তবেই তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু করা ট্রাম্পের পক্ষে এই শর্ত মেনে নেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আমেরিকার সঙ্গে কূটনীতির সমীকরণ যাই হোক না কেন, বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিনের ওপর উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হলেও পিয়ংইয়ংয়ের এই অবৈধ পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে বেইজিংয়ের নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এর ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চিনের সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনা মহামারির কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের দূরত্ব কিছুটা বেড়েছিল। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া কর্তৃক হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বেইজিং খুব একটা ইতিবাচকভাবে নেয়নি। ফলে এই সফরের মাধ্যমে শি জিনপিং সম্পর্কের সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চান।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে চলমান এই অস্থিরতার মাঝে শি ও কিমের এই বৈঠককে ২০২৪ সালে পিয়ংইয়ংয়ে পুতিনের ঐতিহাসিক সফরের সঙ্গে তুলনা করে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সে সময় পুতিন ও কিম একে অপরকে রুশ নির্মিত বিলাসবহুল গাড়িতে চড়িয়েছিলেন এবং একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে শি জিনপিংয়ের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই দেশ ১৯৬১ সালের ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তির’ ৬৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, যা চিনের একমাত্র সক্রিয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে টিকে রয়েছে।


/কহু


  বিষয়:   উত্তর কোরিয়া  চীন  প্রেসিডেন্ট  শি জিনপিং 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: