প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দলীয় নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ উপেক্ষা করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনে কোটি কোটি ডলারের নতুন সামরিক সহায়তা ও রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি যুগান্তকারী বিল পাস করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা।
গত বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২২৬-১৯৫ ভোটে পাস হয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেনের পক্ষে মার্কিন হাউসে পাস হওয়া এটিই প্রথম কোনো বড় ধরনের আইন, যা একই সাথে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ সুগম করেছে।
বিলটি পাসের ক্ষেত্রে হাউসের স্পিকার মাইক জনসন তার দলের সদস্যদের এটি বর্জন করার জন্য তীব্র আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত বুধবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্পিকার যুক্তি দেখান যে, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ১৮ জন রিপাবলিকান এবং সাধারণত রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়া ১ জন স্বতন্ত্র সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন। এটিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের দলীয় বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সাধারণত হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া কোনো বিল ভোটাভুটির জন্য তোলার সুযোগ থাকে না। কিন্তু এই অচলাবস্থা ভাঙতে আইনপ্রণেতারা ‘ডিসচার্জ পিটিশন’ নামক একটি বিরল ও বিশেষ সংসদীয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন। হাউসের ইউক্রেন ককাসের সহ-সভাপতি রিপাবলিকান নেতা ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগ মিকস গত কয়েক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে এই পিটিশনে প্রয়োজনীয় ২১৮টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা কেভিন কাইলি এতে সর্বশেষ স্বাক্ষরটি করে বিলটি সরাসরি হাউসের ফ্লোরে তোলার পথ উন্মুক্ত করেন।
অনুমোদিত এই বিলের অধীনে ইউক্রেনের জন্য ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি প্রতিরক্ষা সহায়তা এবং অস্ত্র ক্রয়ের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার শীর্ষ ব্যাংক, জ্বালানি ও খনি খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মার্কিন বাজারে সমস্ত রুশ পণ্যের আমদানির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ এবং রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।
বিগত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মনোযোগ মূলত ইরান সংকটের দিকে থাকায় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন ভূমিকা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। এমনকি ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব কমাতে ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করায় নিজের দলের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
হাউসে বিলটি পাস হলেও মার্কিন সিনেটে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সেখানে বিলটি পাসের জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন সহায়তার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে এটিই প্রথম কোনো বড় ধরনের পদক্ষেপ।
/কহু