রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দলের যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বাসটি নদী থেকে টেনে ওপরে তোলা সম্ভব হয়। পূর্ব সতর্কতামূলক নিয়মের কারণে বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় এক বড় ধরনের ভয়াবহ প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে সবাই।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের নন-এসি বাসটি ৭ নম্বর ফেরিঘাটের ‘করবী’ ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের র্যাম্প (ডালা) ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।
গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একটি বাস দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকে ঘাট কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগেই বাসের সব যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়। আজকেও যাত্রীরা সেই নির্দেশনা মেনে আগেই বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যাচ্ছিলেন। ফলে বাসটি যখন নদীতে পড়ে যায়, তখন সেটি সম্পূর্ণ যাত্রীশূন্য ছিল। বাসটি পড়ে যাওয়ার ঠিক মুহূর্তটিতে চালক ও সহকারী (হেলপার) লাফিয়ে নেমে প্রাণে বেঁচে যান। পরে স্থানীয়রা সামান্য আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট, কোস্ট গার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর ডুবুরি দল। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পৌনে ১২টার দিকে বাসটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়। বাসটি দৃশ্যমান হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া মালামাল ও ব্যাগ বের করে আনার কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাসটি নদী থেকে টেনে তোলা হলেও নদীর তলদেশে কোনো মানুষ বা পথচারী আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ডুবুরি দল এখনো নিখুঁতভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই তল্লাশি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
/আআ