বেশ কিছুদিন স্ত্রীর সঙ্গে কথা বন্ধ রাখলে নিষ্ঠুরতা নয় : ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা মান-অভিমান খুবই স্বাভাবিক বিষয় এবং এর জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাময়িক যোগাযোগ বা কথাবার্তা বন্ধও হতে পারে।

2026-06-05T13:20:18+00:00
2026-06-05T13:20:18+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বেশ কিছুদিন স্ত্রীর সঙ্গে কথা বন্ধ রাখলে নিষ্ঠুরতা নয় : ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১:২০ পিএম   (ভিজিট : ১৯)
ছবি : সংগৃহীত
দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা মান-অভিমান খুবই স্বাভাবিক বিষয় এবং এর জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাময়িক যোগাযোগ বা কথাবার্তা বন্ধও হতে পারে। কেবল মাত্র স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দিন কথা না বলার অজুহাতে কোনো স্বামীকে ‘মানসিক নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা’র দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না বলে ঐতিহাসিক এক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীর আত্মহত্যার একটি মামলায় অভিযুক্ত স্বামীকে সসম্মানে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় দেন। এর আগে তামিলনাড়ুর একটি ট্রায়াল কোর্ট এবং মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় ওই ব্যক্তিকে স্ত্রীর ওপর মানসিক নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর আগে টানা ১৩ দিন ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি এবং এই অভিমানেই তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন— এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই নিম্ন আদালত এই সাজা শুনিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট জানান, সুনির্দিষ্ট এবং জোরালো কোনো প্রমাণ ছাড়া কেবল মাত্র ১৩ দিন স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বা কথা না রাখাকে কোনোভাবেই আইনি পরিভাষায় ‘নিষ্ঠুরতা’ বা ‘নির্যাতন’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝগড়া-বিবাদ বা মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেনি, যা নিম্ন আদালত বা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় বিচার্য বিষয় হলো— অভিযুক্তের আচরণের তীব্রতা বা গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল কি না যা একজন নারীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করতে পারে কিংবা তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ৪৯৮এ ধারায় অপরাধ প্রমাণ করতে হলে প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, অভিযুক্তের আচরণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চরম পর্যায়ের ছিল। সাধারণ বা ছোটখাটো পারিবারিক কলহকে কোনোভাবেই এই ধারার অধীনে নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বিয়ের সময় কনের পরিবার বরের পরিবারকে ৩ লাখ রুপি এবং ২০ ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক হিসেবে দিয়েছিল। পরবর্তীতে বরের পরিবার থেকে আরও অতিরিক্ত যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া এবং নির্যাতন করা হতো বলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া স্বামীর অমতে বাপের বাড়ি যাওয়ায় স্বামী তার সাথে ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেন, যা মেয়েটিকে চরম মানসিক যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দেয় এবং তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীসহ তার শ্বশুরবাড়ির মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে দেখেন, ভিসাজনিত ও পাসপোর্টের জটিলতার কারণে ওই নারী তার স্বামীর সাথে মাস্কাট (ওমান) যেতে পারেননি, যার ফলে তিনি বাপের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ১৩ দিন তাদের ফোনে কথা হয়নি। আদালত রায়ে পুনর্ব্যক্ত করেন, নিজের অপরাধহীনতা প্রমাণ করা অভিযুক্তের কাজ নয়; বরং প্রসিকিউশনকেই সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে, যা এই মামলায় তারা করতে পারেনি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা সম্পূর্ণ বাতিল করে ওই স্বামীকে খালাস প্রদান করেন।

/কহু


  বিষয়:   ভারত  সুপ্রিম কোর্ট  স্বামী  স্ত্রী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: