রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা না পেয়ে এক ঠিকাদারকে চেয়ার তুলে মারতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে পৌর ভবনের প্রকৌশলী দফতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার রবিউল ইসলাম জানান, বাঘা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিল পরিশোধ নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। তার অভিযোগ, পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বিল ছাড়ের জন্য কয়েক দফায় অর্থ দাবি করেন।
রবিউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি প্যাকেজের কাজ ছয় মাস আগে শেষ হলেও গত পাঁচ মাস ধরে বকেয়া বিলের জন্য তাগাদা দিতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭৫ টাকা ব্যয়ের একটি সড়ক নির্মাণকাজ তার স্ত্রী নিশাত জাহানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ লটারির মাধ্যমে পায়। কাজ চলাকালে প্রকৌশলী গাঁথুনির মান নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং পরে ওই কাজের জন্য ১ লাখ টাকা ও আগের বিলের জন্য আরও ৩ লাখ টাকা, মোট ৪ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ।
রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি আমার ফাইল ছুড়ে ফেলেন, গালিগালাজ করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনেই চেয়ার তুলে আমাকে মারতে উদ্যত হন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা ঠিকাদার শাকিল আহমেদ বাবু ও হিরাউল ইসলাম। তারা বলেন, রবিউল ইসলাম ঘুষ দিতে পারবেন না বলে জানালে প্রকৌশলী উত্তেজিত হয়ে চেয়ার তুলে মারতে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি কোনো ঘুষ দাবি করিনি। ঠিকাদারের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা মারমুখী আচরণও করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই