হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘ট্রানজিট টোল’ বা পারাপার শুল্ক আদায় করা হবে না, বরং জাহাজগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিনিময়ে ‘সার্ভিস ফি’ বা সেবা মাশুল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আধাসরকারি ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহর’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
কূটনৈতিক এই কৌশলগত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে ঘারিবাবাদি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো ট্রানজিট রাইট বা পারাপারের জন্য পথ কর আদায় করতে চাইছে না। এর পরিবর্তে ওমানের সাথে যৌথভাবে এই জলসীমায় জাহাজগুলোকে যে বিশেষ পরিষেবা দেওয়া হয়, তার ক্ষতিপূরণ বা মাশুল চাওয়া হবে। এই পরিষেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে— নৌ-চলাচল সংক্রান্ত সহায়তা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কোনো কারণে দূষণ ঘটলে পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কাজ।
এই কৌশলগত জলপথের আইনি অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সমুদ্রপথটি সম্পূর্ণভাবে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্র আইন অনুযায়ী, এই প্রণালীর ওপর কেবল এই দুই দেশেরই পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব রয়েছে।
ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে এই সেবা মাশুল আদায়ের যে আইনি খসড়া তৈরি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হবে। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, এই নতুন নিয়মটি কিছু দেশের (বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের) কাছে হয়তো শতভাগ সন্তোষজনক বা প্রীতিকর হবে না।
/কহু