ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে জানালেন জাকির নায়েক

ইসলামের আলো ডেস্ক

অর্থনীতি

ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হয় বলে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত দীর্ঘদিনের একটি বড়

2026-06-05T17:38:44+00:00
2026-06-05T17:56:43+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে জানালেন জাকির নায়েক
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম  আপডেট: ০৫.০৬.২০২৬ ৫:৫৬ পিএম
আন্তর্জাতিক ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক।
ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হয় বলে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত দীর্ঘদিনের একটি বড় ভুল ধারণা সম্পূর্ণ খণ্ডন করেছেন প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক। 

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সাধারণ মানুষ মূলত পারস্পরিক সম্মতিতে ঘটিত ব্যভিচার বা জিনা প্রমাণের শর্তের সঙ্গে জোরপূর্বক অপরাধ ধর্ষণের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে, যা মোটেও এক নয়।

আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক বিশেষ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েক ইসলামের এই আইনি ও মানবিক দিকটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।

ডা. জাকির নায়েক তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কোনো নির্দোষ নারী বা পুরুষের বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনলে তা প্রমাণ করতে চারজন সশরীরে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করার কঠোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি কেউ এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে চারজন সাক্ষী প্রমাণ হিসেবে আনতে না পারে, তবে উল্টো ওই মিথ্যা অভিযোগকারীকেই শাস্তি হিসেবে ৮০টি দোররা বা বেত্রাঘাত করা হবে। 

সুতরাং এই চারজন সাক্ষীর শর্তটি কেবল ব্যভিচারের অভিযোগের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ ব্যভিচার সংঘটিত হয় উভয় পক্ষের পারস্পরিক পূর্ণ সম্মতিতে। পক্ষান্তরে ধর্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অপরাধ, যেখানে শারীরিক সম্পর্কটি একজন নারীর ওপর সম্পূর্ণ জোরপূর্বক ও পৈশাচিক উপায়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়।

এই ধরনের জোরপূর্বক অপরাধের কঠোর শাস্তির ব্যাপারে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদগণ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন, যেখানে মূলত ‘হিরাবাহ’ বা জমিনে নৈরাজ্য, লুণ্ঠন ও চরম সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামি আইনবিদদের সর্বসম্মত মতে ধর্ষণ হলো জমিনে চরম নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির শামিল, কারণ এখানে একজন নারীকে অস্ত্রের মুখে বা প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তার সম্ভ্রমহানি করা হয়। 

ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় এই হিরাবাহ বা ধর্ষণের অপরাধ যদি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, তবে অপরাধীর একমাত্র নির্ধারিত আইনি শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। আর এই হিরাবাহ বা ধর্ষণের ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নেই, বরং কেবল দুইজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী অথবা পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বা আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিই অপরাধীকে শনাক্ত করতে যথেষ্ট।

আদালতের সমস্ত পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে বিচারক যদি শতভাগ নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটিই প্রকৃত ধর্ষক, তবে সে অবধারিতভাবে মৃত্যুদণ্ড পাবে। আর যদি কোনো কারণে বিচারক বিষয়টি নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন বা প্রমাণের অভাব থাকে, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কিছু নমনীয় বা শিথিল শাস্তি যেমন কারাদণ্ড বা দোররা মারা যেতে পারে। তবে এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে কোরআনে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি লাশ জনসম্মুখে খুঁটিতে ঝুলিয়ে ক্রুশবিদ্ধকরণ, বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা অথবা দেশান্তরের মতো কঠোরতম বিধানও রাখা হয়েছে। 

এ ছাড়া ইমাম মালেক (রহ.) ও ইমাম শাফেঈর (রহ.) অভিমত হলো, ধর্ষককে নির্ধারিত শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে তার সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত মোহর বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং সুফিয়ান সাওরীর (রহ.) মতে অপরাধীর জন্য নির্ধারিত আইনি সর্বোচ্চ শাস্তিই যথেষ্ট।

ডা. জাকির নায়েক তার বক্তব্যের সপক্ষে স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে মদিনায় ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করেন, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। 

এক নারী অন্ধকার রাতে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ওই নারী পরবর্তীতে লোকদের সহায়তায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে নিয়ে এলে ভুক্তভোগী নারী ভুলবশত তাকেই ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেন। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সেই নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যাবেন, ঠিক তখনই প্রকৃত অপরাধী নিজে থেকে সামনে এগিয়ে এসে নিজের দোষ স্বীকার করে।

তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দোষ লোকটিকে ছেড়ে দিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন’, কারণ তিনি স্বেচ্ছায় বা খারাপ উদ্দেশ্যে ভুল করেননি। আর যিনি প্রকৃত ধর্ষক ছিলেন এবং নিজে এসে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভুক্তভোগী নারীর কাছে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য কোনো চারজন সাক্ষী দাবি করেননি, বরং পারিপার্শ্বিক ও পরিস্থিতিগত প্রমাণকেই বিচারের মূল ভিত্তি ধরেছিলেন। সুতরাং ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয় এবং অপরাধ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হলে এর একমাত্র চূড়ান্ত শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: