বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এই গৃহীত শোকপ্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ও শোকবার্তা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। ঢাকাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো এই চিঠিটি মরহুমার নিকটাত্মীয় ও পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত ওই চিঠির বিবরণী থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তার শোকবার্তায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিস্তারিত স্মৃতিচারণ করেন।
স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। স্পিকারের বক্তব্যের পর গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের প্রতীক হিসেবে বিধানসভার সমস্ত সদস্য এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং স্পিকার প্রধান সচিবকে এই শোকবার্তা মরহুমার পরিবারের কাছে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়ে সেদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তিনি তার শিক্ষা জীবনে দিনাজপুর মিশনারি স্কুল, দিনাজপুর গার্লস স্কুল এবং পরবর্তীতে ভারতের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন।
১৯৮১ সালে তার স্বামী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া দেশের সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালে সর্বসম্মতিক্রমে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
শোকপ্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বাংলাদেশের চারটি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার সবকটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তিনি তিন দফায় অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তার বক্তৃতার শেষাংশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কালজয়ী ব্যক্তিত্ব, যিনি এই অঞ্চলে গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে আজীবন কাজ করে গেছেন।
সময়ের আলো/টিএইচ