চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসদরের ব্যস্ততম শহিদ ছবুর সড়কে অবস্থিত প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো ছবুর মার্কেট মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। চার বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ভবনটিতে এখনও চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাস। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যর্থ হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রাজেশ বড়ুয়া বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাদের অবগত করেছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ছবুর মার্কেটের মালিকপক্ষের সদস্য মুহাম্মদ আবদুস সোবহান বলেন, মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা কয়েক বছর ধরে এটি ভেঙে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি অপসারণে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করতে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মরহুম মো. আবদুছ ছবুর ১৯৬০ সালে বসতঘর ও আয়ের উৎস হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দোকানঘর সংযুক্ত করে এটি ছবুর মার্কেট নামে পরিচিতি পায়। অভিযোগ রয়েছে, পটিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরও ভবনটির কোনো অনুমোদিত নকশা বা নির্মাণ অনুমতি নেওয়া হয়নি। বর্তমানে দ্বিতল ও আংশিক ত্রিতল ভবনটিতে মরহুম আবদুছ ছবুরের পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। একই সঙ্গে মার্কেটের অর্ধশতাধিক দোকানে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও কর্মচারী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
আরও পড়ুন
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ আগস্ট ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভবনটি অপসারণের জন্য মালিকপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়। তবে চার বছর পার হলেও ভবনটি অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে, লোহার রডে মরিচা ধরেছে এবং বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য ভূমিকম্প বা বড় ধরনের কম্পনেও ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গত ১৪ মে বিকালে মার্কেটের ‘নূর টেলিকম’ নামের একটি দোকানের ছাদের অংশ ধসে পড়লে বাবলু নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। তার মাথায় আঘাত লেগে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
এর আগে ২০২২ সালের ১৪ জুলাই ‘এশিয়া গার্মেন্টস’ নামের একটি দোকানের ছাদ ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্যবশত দোকানটি তখন বন্ধ থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সে সময় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, পরিত্যক্ত ভবনে ভাড়া দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ হলেও ভবনের কিছু অংশে এখনও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত ভবনটি অপসারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভবন নির্মাণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ছবুর মার্কেটে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর সেই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এএডি/