মুখে তদারকির কথা বলা হলেও বাস্তবে নেই কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি—এমন অভিযোগ উঠেছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন বেকারির বিরুদ্ধে। অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে রুটি, বিস্কুট, কেকসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। এসব খাবার শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে কয়েকটি বেকারি ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদনস্থলের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। মেঝেতে পড়ে আছে রুটি, বিস্কুট ও অন্যান্য খাবার তৈরির জন্য প্রস্তুত করা ময়দা। ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে এক শ্রমিক দ্রুত তা সরিয়ে নেন। বেকারির ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, খাবারের ওপর মাছি বসা এবং ময়লা-আবর্জনার চিত্রও দেখা যায়।
একটি বেকারির মালিক মো. আলামিন নিজেই স্বীকার করেন, তাদের বেকারির পরিবেশ ভালো নয় এবং রুটির ওপর বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনাও ঘটে। তবে এ বিষয়ে তার কথায় কোনো অনুতাপের ছাপ দেখা যায়নি। পরে তিনি জানান, পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এসব খাবার খেয়ে শিশুসহ অনেকে ডায়রিয়া ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাশার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ও আমাদের সন্তানরা এসব খাবার খেয়ে ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।’
একই ধরনের অভিযোগ করেন মো. আক্তার হোসেন ও মো. ইব্রাহিম। তারা বলেন, বেকারিগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনিয়ম বাড়ছে।
এদিকে বোরহানউদ্দিন বেকারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেকারিগুলোতে কোনো ধরনের তদারকি বা সভা হয়নি। তিনি জানান, দ্রুত মালিকদের নিয়ে সভা করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার উৎপাদনের বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করা হবে।
অন্যদিকে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, খাদ্যদ্রব্য তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো সময় সময় পরিদর্শন করা হয় এবং এগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, বাস্তবে কোনো বেকারি পরিদর্শন করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসলে কোনো বেকারি পরিদর্শন করিনি, তবে ঈদের সময় বাড়িতে সেমাই তৈরির বিষয়টি দেখেছি।’
সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের দায়িত্বশীল তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে বেকারিগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিচালনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/এসএকে