নেত্রকোনায় টানা তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বাসাবাড়ি, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাড়তি খরচ করে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে চুলা কিনতে গিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি।
নেত্রকোনা গ্যাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব নেত্রকোনা জেলায় বেশি পড়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে গ্যাসের চাপ এমনিতেই তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে চাপ একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
গ্যাস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা পৌরসভা এলাকায় মোট আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৬০০ জন। এছাড়া একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের আওতায় রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন, আবার অনেকে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বাসাবাড়িতেও অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নেত্রকোনা জেলা তিতাস গ্যাস অফিসের উপ-ব্যবস্থাপক মো. গোলাম মর্তুজা জানান, কক্সবাজারের এলএনজি গ্যাস টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/এসএকে