ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজের ১৮ মাস পর কিশোরী মোছা. নিঝুম খাতুনের লাশের সন্ধান মিলেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জিম।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এখলাচ হোসেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী নিঝুম খাতুন। এ ঘটনায় তার মা মোছা. তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তিনি অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিঝুমের প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমকে আটক করে পুলিশ। তিনি উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে। আটকের পর ২০ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমের লাশের সন্ধান দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, জিম জানান, পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের কাছে নিঝুমকে হত্যা করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ওই এলাকা থেকে এক কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় লাশটি দাফন করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম সিআইডির ক্রাইম সিন এক্সপার্টদের আর্কাইভে সংরক্ষিত ওই অজ্ঞাত কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম লাশটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের দাবি, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তিনি নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে জনশূন্য রেললাইনের পাশে বসে তারা সময় কাটান।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জিম বলেন, সেখানে নিঝুম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি নিঝুমকে থাপ্পড় মারেন। এতে নিঝুম অচেতন হয়ে পড়লে তাকে টেনে রেললাইনের নিচের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে নিঝুমের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন জিম।
পুলিশ জানায়, নিঝুমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি গুমের উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে রেখে জিম ট্রেনে করে নিজ গ্রামে ফিরে যান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি নিঝুম হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করছেন মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিমানিষ।
সময়ের আলো/জোই