এবার মাঠের আন্দোলনে নামছেন ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা। ভিন্নধর্মী ধারার জন্য পরিচিত এই নেতা ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরছেন এবং শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘ভারতের পথে আছি... আমার ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম।’
ভারতের লাদাখ অঞ্চলের বিশিষ্ট অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের পর গ্রেফতার হয়ে তিনি ছয় মাস আটক ছিলেন।
দীপকে এর আগে সমর্থকদের বিমানবন্দরে ভিড় না করার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লি বিমানবন্দরে যোগ দেওয়ার আহ্বানে যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল।’
তিনি বলেন, এত মানুষের বিমানবন্দরে সমবেত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এতে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অসুবিধা হবে। শনিবারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি নিতে তিনি সরাসরি পুলিশের কাছে যাবেন। আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক এবং আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাই কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নামের অনুকরণে গঠিত ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গত মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী অর্জন করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে সরকার-সমালোচনাকারী তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর সিজেপির জন্ম হয়। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (এএপি)-র সাবেক কর্মী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে অনলাইনে কাল্পনিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’ এই স্লোগান নিয়ে দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে।
সময়ের আলো/জেডআই