কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে তাকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৩০ মে ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবু বক্করের পরিবারের লোকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এক নারীসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করে। এ সময় প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা স্থানীয়দের অবরুদ্ধ করে রাখে।
অবরুদ্ধ অবস্থার সুযোগ নিয়ে 'এরশাদ বাহিনী' ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ঘর থেকে প্রায় ৫০ মণ ধান, আসবাবপত্র, ফ্রিজ এবং গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি লুটে নেয়। খবর পেয়ে ওই রাতেই উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ও আহত আবু বক্কর সিদ্দিকী, তার স্ত্রী শাহিদা বেগম এবং ছেলে ফুল মিয়াকে উদ্ধার করে। পরে তাদের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৩১ মে (রোববার) ভুক্তভোগী আবু বক্কর সিদ্দিকী বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে প্রধান আসামি করে উলিপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে গ্রেফতার করে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে লুট হওয়া দুটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই