পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুদ্ধের ক্রমানুসার প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তেহরানের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি উসকানি এবং আন্তর্জাতিক জলসীমার নিয়ম লঙ্ঘন করে তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করার চেষ্টার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়: ১। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ‘তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায়’ (গাইডেড) চারটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ২। বিষয়টি টের পেয়ে ইরানি নৌবাহিনী ওই জাহাজগুলোকে থামার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে। কিন্তু মার্কিন মদদে জাহাজগুলো সেই নির্দেশ অমান্য করে। ৩। ফলশ্রুতিতে, ইরানি কমান্ডোরা অন্যতম একটি অবাধ্য তেলবাহী ট্যাংকারকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় এবং সেটিকে মাঝসাগরে অবরুদ্ধ করে থামিয়ে দেয়। এই কঠোর অ্যাকশনের পর বাকি তিনটি জাহাজ উল্টো পথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ট্যাংকার থামানোর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ বন্দর এবং সিরিক বন্দরের ওপর দুটি শক্তিশালী প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান আর কোনো ছাড় দেয়নি। তারা এর উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর কুখ্যাত ‘ফিফথ ফ্লিট’ -কে লক্ষ্য করে একযোগে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, আমরা আগ্রাসী এবং শিশু হত্যাকারী শত্রু পক্ষকে (আমেরিকা ও ইসরায়েল) পরিষ্কারভাবে সতর্ক করছি। এই ধরনের শয়তানি ও ধৃষ্টতার পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আর কোনো ‘সীমিত’ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এরপর যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে সিলগালা বা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে- তার জন্য একমাত্র আমেরিকাই দায়ী থাকবে।
/কহু