ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রথম ঐতিহাসিক অন-গ্রাউন্ড জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও উগ্র-আন্দোলনমুখী বক্তব্য রাখলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার (৬ জুন) সকালে সকালে দিল্লিতে পা রাখার পর গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কথা পুনর্ব্যক্ত করে দিপকে জানান, এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যেকোনো ধরনের পুলিশি আটক বা কারাবরণ করার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের হাততালির জবাবে দিপকে বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে আমার বিমানটি অবতরণ করার ঠিক আগের মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো স্বাধীন মানুষ হিসেবে এগুলোই আমার জীবনের শেষ কয়েকটা মুহূর্ত। কিন্তু আমি এই লড়াইয়ের জন্য, দেশের ছাত্র সমাজের জন্য আমার নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতেও পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম।
তিনি আরও যোগ করেন, আজ জেল বা আইনি হয়রানির ভয়ে দেশের বহু মানুষ আপস করতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু ভারতের তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্র সমাজ নিজেদের বিকিয়ে দেয়নি, তারা মেরুদণ্ড সোজা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য তিনি খ্যাতনামা সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে বিকেলের দিকে ওয়াংচুক নিজেই এই বিক্ষোভে সশরীরে শামিল হবেন।
দুপুর ১২টা বেজে ৪৮ মিনিটের দিকে আন্দোলনের লাইভ আপডেটে দেখা যায়, সিজেপি প্রধান সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দমনপীড়নের নীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন। নিট-ইউজি, সিএসবিই এবং সিইউইটির মতো জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক প্রশ্নফাঁস এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত এক মাস ধরে তারা অনলাইনে যে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন, সরকার তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডিজিটাল ফ্রন্টে এই যুব আন্দোলনকে দমন করার সরকারি চেষ্টার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে অভিজিৎ দিপকে বলেন, আমরা গত এক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের সেই যৌক্তিক দাবিতে কান না দিয়ে সরকার আমাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য অন্য ধান্দায় ব্যস্ত রয়েছে। তারা আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে, আমাদের পোস্টগুলো ডিলিট (মুছে ফেলা) করে দিচ্ছে। আমি এই মঞ্চ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই। আপনারা ক্ষমতার জোরে হয়তো আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ডিলিট করতে পারবেন, কিন্তু রাজপথের এই লড়াই থেকে আমাদের মুছবেন কীভাবে? আমাদের অস্তিত্বকে কীভাবে মুছে দেবেন?