দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মহাসমাবেশ থেকে দেশের ছাত্র ও যুবসমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় এবং রূপকধর্মী বক্তব্য রাখলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে ধারাবাহিক জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদ বা আন্দোলনের গুরুত্ব কতখানি।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সমাবেশে উপস্থিত ছাত্র সমাজের গগনবিদায়ী করতালির মাঝে দিপকে বলেন, লোকে আমাদের জিজ্ঞেস করে- এই আন্দোলন, অনশন, বিক্ষোভ প্রদর্শন কিংবা রাজপথে মিছিল করে আসলে কী লাভ হয়? কী অর্জন করা যায় এগুলো দিয়ে? আমি তাদের বলতে চাই— এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে আমরা এখনো মরে যাইনি, আমরা বেঁচে আছি! এই স্বৈরাচারী সরকারের কাছে হয়তো সাধারণ শিক্ষার্থী বা যুবসমাজ কেবলই কিছু পোকা-মাকড় কিংবা তেলাপোকার মতো নগণ্য হতে পারে; কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে আমরা বেঁচে আছি এবং নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য লড়াই করার ক্ষমতা আমাদের আছে।
ডিজিটাল দুনিয়া থেকে শুরু করে দিল্লির রাজপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা- তা পুনর্ব্যক্ত করেন সিজেপি প্রধান। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যখন কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না, তখন সরকার তাদের ইচ্ছামতো শোষণ করে। কিন্তু যন্তর মন্তরের এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করেছে যে ভারতের যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেবে না।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় এই তরুণ নেতা বলেন, আন্দোলন কেবল কোনো দাবি আদায়ের মাধ্যম নয়, বরং এটি শোষকের রক্তচক্ষুর সামনে শাসিতের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
/কহু