মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানান, ধারাবাহিক মার্কিন অভিযানের পর ইরানের কাছে এখন তাদের আগের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের মাত্র ‘২১ থেকে ২২ শতাংশ’ অবশিষ্ট রয়েছে। শনিবার (৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই তথ্য জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘ইরানের অধিকাংশ ড্রোন তৈরির কারখানা ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা লাঞ্চিং প্যাড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সিংহভাগ উৎপাদন এলাকাও আমাদের হামলায় পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে’।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের এখনও সামান্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আছে। আমি যদি শতকরা হিসাবে বলি, তবে হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখন অক্ষত আছে; এটিও সংখ্যার দিক থেকে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা শুরু করেছিলাম তখনকার তুলনায় এটি কিছুই নয়’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য ইরান কেন এখনও কোনো চুক্তিতে সম্মত হচ্ছে না—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তাদের চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানিরা জাতি হিসেবে অত্যন্ত অহংকারী এবং গর্বিত, তবে এখন এমন কিছু বিষয় চলে এসেছে যা তারা অতীতে কখনো করবে বলে ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের বাধ্য হয়েই তা করতে হবে। বর্তমানে তাদের সামনে কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই এবং এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে’।
সাক্ষাৎকারে প্রথম মেয়াদে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাওয়ার পরও কেন একটি ভালো চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘এই ধরণের জটিল কূটনৈতিক বিষয়গুলো সফল করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। এই মানুষগুলো দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে অনবরত যুদ্ধ ও লড়াই করে আসছে’।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সর্বশেষ দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ ডেস্ক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘায়িত সংঘাতের পর থেকে তেহরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওয়াশিংটন একের পর এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর এখন পর্যন্ত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা তেহরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির পাল্টা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি