নাটোরের বড়াইগ্রামে পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর শিবপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৫ জন এবং শনিবার (৬ জুন) সকালে মাঝগাঁও তিরাইল গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আরও ৫ জন আহত হন।
শিবপুরের ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) থানায় তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে ঈদের পরদিন গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গোপালপুর মৃধাপাড়া এলাকার আবির হোসেনের সাথে শিবপুর গ্রামের সজীব হোসেনের হাতাহাতি হয়। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সজীব শিবপুর বাজারে গেলে আবির ও তার স্বজনরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবু হানিফ মারামারি থামাতে গেলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আবু হানিফের স্বজনরা পাশের গড়মাটি কলোনী থেকে লাঠিসোটা নিয়ে শিবপুর বাজারে আসে। একপর্যায়ে গড়মাটি ও গোপালপুর কলোনীর লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে গোপালপুরের লোকজন বাজার ত্যাগ করলে, গড়মাটি কলোনীর লোকজন এই ঘটনার জন্য শিবপুরবাসীকে দায়ী করে তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ওয়াজ প্রামাণিক, আদিল প্রামাণিক, আব্দুল বারেক প্রামাণিক, কামরুল হাসান, ইসরাইল প্রামাণিক, সজিব হোসেন, আবু হানিফ, আব্দুল আওয়াল, রাব্বি মন্ডল, মেহেদি হাসান ও ইলিয়াস হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, "শিবপুরের ঘটনায় থানায় তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে শনিবার সকালে উপজেলার মাঝগাঁও তিরাইল গ্রামে মাত্র ৪ ইঞ্চি জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম, আব্দুল গফুর, শুকুর আলী ও জহুরুল ইসলামসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। তাদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ওসি আব্দুস ছালাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারির খবর তিনি শুনেছেন। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জেডি