২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার এক আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছে তারা। দলের গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো জানিয়েছেন এবার তারা আর বড় স্বপ্ন দেখতে চান। বুনো বলেন, খেলোয়াড়দের মান এখনও আগের মতোই আছে। বিশ্বকাপ প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন, তাই মানসিকতাও থাকবে তুঙ্গে। কারও জন্য এটি শেষ, আবার কারও জন্য প্রথম বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক নিউ জার্সিতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘সি’তে তাদের মিশন শুরু হবে, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
ব্রাজিলের মতো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দলের বিরুদ্ধে খেলতে মরক্কো মুখিয়ে থাকলেও, বুনো পা রাখছেন মাটিতেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সত্যি বলতে, আমাদের চেয়েও বড় ফেভারিট দল এখানে আছে। তবে ২০২২ সাল থেকে আমরা যে উন্নতির ধারায় আছি, সেটাই ধরে রাখতে চাই। এরপর দেখা যাক আমরা কতদূর যেতে পারি। কাতার বিশ্বকাপের শুরুতে মরক্কোর র্যাঙ্কিং ছিল ২২তম, যারা বর্তমানে রয়েছে ৮ম স্থানে। স্বভাবতই এখন প্রতিপক্ষ দলগুলো তাদের বাড়তি সমীহ করবে। বুনোও মনে করেন, আফ্রিকান দল হিসেবে তারা এখন বিশ্বমঞ্চে যে সম্মান ও বিশ্বাস পাচ্ছেন, তা আগে কখনো পাননি।
গত মার্চে ওয়ালিদ রেগ্রাগুইয়ের বিদায়ের পর মরক্কোর ডাগআউটে এসেছেন নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। তবে দলের খেলার ধরন বা মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। মরক্কোর মূল শক্তি তাদের অটুট দলীয় সংহতি। দলের তৃতীয় গোলরক্ষক রেদা তাগনাউতি কাতারের স্মৃতি মনে করে বলেন, দেড় মাস একসঙ্গে বায়ো-বাবলে থাকার পরও আমাদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য হয়নি। আমাদের সঙ্গে পরিবার ছিল এবং আমরা অসাধারণ একটি দল হিসেবে ছিলাম। সে কারণেই সাফল্য পেয়েছিলাম। মরক্কোর সাম্প্রতিক সাফল্যের মূল ভিত্তি তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ, যার নেপথ্য নায়ক ইয়াসিন বুনো। কাতারে প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১ গোল খাওয়া বুনো এখনও নিজের সেরা ফর্মে আছেন। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ৩৭ ম্যাচে আল হিলালের এই তারকা গোলপোস্টের নিচে গোল খেয়েছেন মাত্র ১৪টি (ম্যাচ প্রতি গড়ে মাত্র ০.৩৭ গোল)।
৩৫ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জানান, অভিজ্ঞতার কারণে মানসিকভাবে তিনি এখন আরও বেশি প্রস্তুত। কোনো অনুশোচনা না রেখে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলাটাই এখন তার মূল লক্ষ্য। মরক্কো দলে মূল একাদশ ও সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া চমৎকার। দলের তৃতীয় গোলরক্ষক তাগনাউতি জানান, ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও দলের স্বার্থে সবাইকে সবসময় প্রস্তুত ও পেশাদার থাকতে হয়। এই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বকাপে যাচ্ছে মরক্কো। ভাগ্য যাই হোক না কেন, বুনো নিশ্চিত করে বলেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো বিশ্ব ফুটবলে আবারও নিজেদের ছাপ রেখে যাবে।
আরবিএন