২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের। দলটির জন্য এই মাহেন্দ্রক্ষণ যতটা আবেগের, তার চেয়েও অনেক বেশি বিশেষ উইঙ্গার তাহিথ চংয়ের জন্য। ২৬ বছর বয়সি চং এই স্কোয়াডের একমাত্র ফুটবলার, যার জন্ম কুরাসাওয়ের মাটিতে।
শৈশবের বড় একটা সময় দ্বীপে কাটানোর পর ফুটবলের টানে নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। খেলেছেন ডাচ যুব দলেও। তবে সিনিয়র হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর ক্ষেত্রে নাড়ির টান এড়াতে পারেননি। ২০১৫ সালে ‘দ্য ব্লু ওয়েভ’-খ্যাত কুরাসাওকে বেছে নেন। নিজ দেশের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকেই দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন চং, যার হাত ধরে এবার ইতিহাস গড়েছে দেশটি। খেলতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে। আসন্ন আসরে গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি ছাড়াও আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে চংয়ের কুরাসাও।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন এবং নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার রোমাঞ্চ নিয়ে সম্প্রতি ফিফাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন চং। নেদারল্যান্ডসের মতো পরাশক্তিকে রেখে কুরাসাওকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে চং বলেন, ‘এটাকে (কুরাসাও) কেবল নিজের ঘর বলেই মনে হতো। আমি প্রতি গ্রীষ্মে এবং আমার প্রতিটি ছুটিতে কুরাসাও আসতাম। যখন জাতীয় দলে খেলার সুযোগটি এলো, তখন আমার ঘরকেই বেছে নিলাম।’ কুরাসাওয়ের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার স্মৃতি চংয়ের হৃদয়ে আলাদা এক জায়গা জুড়ে আছে। যে হোটেলের সামনে দল ক্যাম্প করেছিল, সেটি ছিল তার শৈশবের স্কুলের ঠিক উল্টোদিকে। সেই ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তার ৯৬ বছর বয়সি নানি, যিনি এর আগে কেবল টিভিতেই নাতির খেলা দেখতেন।
সেই আবেগঘন স্মৃতি হাতড়ে চং বলেন, ‘আমার ঘরের মাঠের সেই ম্যাচে নানির মাঠে এসে সরাসরি আমার খেলা দেখাটা ছিল অসাধারণ এক অনুভূতি। এর দুই মাস পরই তিনি মারা যান, তাই সেই কথা মনে পড়লে এক মধুর অনুভূতি জেগে ওঠে।’
ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার শুরুটা কীভাবে, তা জানাতে গিয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপের এক মজার গল্প শোনান চং। ছোটবেলায় ফুটবলকে ‘বোকামিপূর্ণ খেলা’ মনে করা চং ২০০৬ সালের ফ্রান্স-ইতালি ফাইনাল এবং জিনেদিন জিদানের সেই বিখ্যাত ‘হেড-বাট’ দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বাবার কাছে আবদার করেছিলেন ফুটবলার হওয়ার। সেই ঘটনার ২০ বছর পর আজ নিজেই বিশ্বকাপের মঞ্চে। ফুটবলবিশ্বে কুরাসাওকে চিনানোর এটিই সেরা সুযোগ বলে মনে করেন চং, ‘আমরা বিশ্বকাপে থাকায় কুরাসাওয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি। আশা করি আমরা দেশের প্রতিনিধিত্বটা খুব ভালোভাবে করব এবং কুরাসাওয়ের মানুষ ও দেশ হিসেবে আমাদের একটি ছোট্ট ইতিহাস শিক্ষা দিতে পারব।’ দলের চমৎকার বন্ধনই তাদের এত দূর নিয়ে এসেছে জানিয়ে চং জানান, এখানে কোনো একক ব্যক্তির চেয়ে দলের স্বার্থই সবার আগে, যা তাদের একটি পরিবারে পরিণত করেছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে চং দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক লিয়েন্দ্রো বাকুনা এবং গোলরক্ষক এলোয় রুমের অবদানের কথা স্মরণ করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা এই স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন। এদিকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকে পুরো কুরাসাও দ্বীপে বইছে উৎসবের আমেজ। সাধারণত ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সমর্থকে বুঁদ থাকা এই দ্বীপের মানুষ এখন শুধু নিজেদের দলের জয়গানে মত্ত।
আরবিএন