সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের। গতকাল ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ হলো মারিয়া, ঋতুপর্ণাদের। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৩-১ গোলে পরাজিত হয় লাল-সবুজরা। হারা ম্যাচে প্রাপ্তি কেবল ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ এক গোল।
ফাইনালের মধ্য দিয়ে সাফের অষ্টম আসর সমাপ্তি হলো। আগের ৭ আসরে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন ভারত, শেষ দুবার শিরোপা জয়ীর নাম বাংলাদেশ। সমৃদ্ধির রেকর্ডটা আরেকটু বাড়িয়ে নিল স্বাগতিকরা। এবার নিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের কীর্তি। আগের সাত আসরে একবার আয়োজক ছিল ভারত। ২০১৬ সালে, এবার দ্বিতীয়বার আয়োজক হলো। দুবারই শিরোপা জেতার মধ্য দিয়ে স্বাগতিক হওয়ার পূর্ণ সুবিধা ঘরে তুলল দলটি।
কাকতালীয় বলব না নিয়তি! অবশ্য দুটি শব্দই বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালে প্রযোজ্য। ১০ বছর আগে নিজেদের মাঠ শিলিগুড়িতে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতেছিল ভারত। সেই আসরের ফাইনালে লাল-সবুজদের ৩-১ গোলে হারিয়েছিল। ১০ বছরেও চিত্রনাট্যে এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। শিলিগুড়ি যে ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল, কাল গোয়াতেই একই ব্যবধানে। ১০ বছর পর ভেন্যু আর দুদলের খেলোয়াড়ে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, ফলাফল আগেরটাই থেকে গেছে।
সাফে এবারের যাত্রাটা বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নময় ছিল। টানা দুইবারের শিরোপাজয়ীদের পারফরম্যান্স ছিল শুরু থেকেই সাদামাটা। গ্রুপপর্বে কেবল মালদ্বীপের বিপক্ষেই বড় জয় পেয়েছে (৪-২)। এরপর ভারতের কাছে হেরেছে ৩-০ গোলের লজ্জার ব্যবধানে। গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখলেও নেপালকে হারাতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে। তবে নেপালকে হারানোর পর সমর্থকরা স্বপ্ন বোনা শুরু করেছিল, আরও একবার মারিয়া, ঋতুরা ট্রফি নিয়ে দেশ ফিরবে, ছাদখোলা বাসে বীরোচিত সংবর্ধনায় ভাসবে। পিটার বাটলারের দল ফাইনালে কাল এমনটা করে দেখাতে পারেনি।
এবার গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে যাচ্ছে-তাই পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। সেই অবস্থা থেকে ফাইনালেও বেরুতে পারেনি। ডিফেন্ডাররা একের পর এক ভুল করেছেন, গোলরক্ষক মিলি আক্তারের পারফরম্যান্সও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। একের পর এক আক্রমণে বাটলারের দলে নাভিশ্বাস তোলে স্বাগতিকরা। ৪২ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায়। পিয়ারি জাকার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ঋতুপর্ণার দারুণ ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশ সমতায় ফেরে। নেপাল ম্যাচেও ঋতুপর্ণার অলিম্পিক গোলে বাংলাদেশ প্রাণ ফিরে পেয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভারত লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ৪৯ মিনিটে কর্ণার থেকে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে হেড করেন ভারতের সানফিদা। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা তাকে ব্লক করতে পারেননি। গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঝাঁপিয়ে পড়লেও বল সাইড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ সমতা আনার চেষ্টা করে। ঋতুপর্ণার ওপর নির্ভর করলেও তিনি এই অর্ধে তেমন কোনো আক্রমণ করতে পারেননি। বাংলাদেশ এই অর্ধে ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি। উল্টো ৮২ মিনিটে ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভারতের ফরোয়ার্ডের পায়ে লেগে আরেক ফরোয়ার্ড কম বল পান। তার নেওয়া শট জালে জড়ালে ভারতের শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত হয়। ম্যাচের বাকি সময় গোল আদায়ের চেষ্টা করেও ভারতের জমাট রক্ষণে কাঁপন ধরাতে পারেনি মারিয়া মান্দার দল।
আরবিএন