ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। চলতি মাসেই ঢাকায় আসার কথা রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের। তবে সবশেষ খবর বলছে, আরও এক দফায় পিছিয়ে যেতে পারে ভারত-বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত সাদা বলের সিরিজ।
যদিও এখনই সিরিজ বাতিলের মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বরং দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড সম্ভাব্য নতুন সময় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে এসে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল ভারতের। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শুভমান গিলদের এই সফরটি আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচির অংশ। মূলত সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের আগস্টে। দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন সেটি পিছিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নতুন সূচিতে চলতি বছরের আগস্টে সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পাওয়ায় সেই আশাতেও এখন অনিশ্চয়তার ছায়া।
গত মাসে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে আইসিসি সভাপতি জয় শাহ ও বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর কয়েক দিন আগে দুবাইয়ে আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির সভার সময়ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিরিজটি নিয়ে আলোচনা করেন তামিম।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের সরাসরি আপত্তি ছিল না। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিল। একইভাবে বিসিবিও অপেক্ষায় ছিল দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
কিন্তু গত বুধবার নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তখন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডও বুঝতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন করা কঠিন।
যদিও এই সিরিজ নিয়ে প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ান হাইকমিশন, ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কাজ করছেন। একটু সময় দেন, কাজটি চলমান রয়েছে। আশা করি যে, খুব দ্রুত সময়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের যে সিরিজটি যাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যাটি আমরা সমাধান করব।
সিরিজ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও সম্প্রচারস্বত্বসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও সেভাবে এগোয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও আর বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না। তবে সিরিজ বাতিল হচ্ছে না।
দুই দেশের বোর্ড শিগগিরই নতুন সময় নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে সামনে আসছে ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি। অবশ্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সূচি এবং ভারতীয় দলের ব্যস্ততা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যদি ওই সময়ও কোনো কারণে সিরিজ আয়োজন সম্ভব না হয়, তা হলে ভবিষ্যৎ সফরসূচিতে দুই দলের ব্যস্ততা বিবেচনা করে পরবর্তী কোনো উপযুক্ত সময় বের করা হবে। এমনকি সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভবিষ্যৎ এফটিপিতে একাধিক সফর, সিরিজ কিংবা টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সমন্বয়ের সুযোগও থাকতে পারে।
ভারতের ক্রিকেট সফর স্থগিত হওয়ার প্রভাব ক্রিকেটের বাইরেও পড়তে পারে। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় হওয়ার কথা রয়েছে সাফ ফুটবল। সেখানে ভারতীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়েও এখন নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ, মাঠের লড়াইয়ের আগে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাই আপাতত ভারত-বাংলাদেশের ক্রীড়া সূচির সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ভারতীয় বোর্ডের এক সূত্র বলেছে, ‘আমরা আলোচনা করছি। বাংলাদেশে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনুমতি প্রয়োজন। নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলব।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে