ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচেই সান মারিনোকে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। স্মরণীয় এই জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের রণকৌশল, সীমাবদ্ধতা এবং প্রবাসী দর্শকদের উল্লাস নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্সে খুশি হলেও, দলগত উন্নতির জন্য বেশ কিছু জায়গার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
থমাস ডুলি জানান, প্রতিপক্ষ সান মারিনোকে তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং ম্যাচের আগে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে তাদের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ইউরোপের বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার কারণে সান মারিনোর ফিফা র্যাঙ্কিং দেখে তাদের আসল শক্তি বোঝা সম্ভব নয়। প্রতিপক্ষের শারীরিক শক্তি এবং শূন্যে ভাসানো বলের (এরিয়াল বল) মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিজেদের গতি ও পাসিং ফুটবলকে কাজে লাগিয়েছে। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি এবং সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশের কারণে ম্যাচের শুরুতে ফুটবলারদের মধ্যে কিছুটা জড়তা ছিল।
নিজ দলের দুর্বলতা তুলে ধরে ডুলি বলেন, রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগে ওঠার সময় কিছু সহজ বল হাতছাড়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে দলে যোগ দেওয়া খেলোয়াড়রা রণকৌশল পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারায় এমনটা হয়েছে। তবে এসব দ্রুতই সংশোধনযোগ্য। আমাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে, তারপর অনুশীলনের ধরন বদলাতে হবে এবং সবশেষে খেলার শৈলী পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা পুরোপুরি সম্ভব।
নতুন কোচের অধীনে প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ দল খুব বেশি সময় পায়নি। মাত্র ১০ দিনের ক্যাম্প এবং ম্যাচের শেষ তিন দিনে চারজন নতুন ফুটবলার দলে যোগ দেওয়ার পরও যেভাবে খেলোয়াড়রা মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তা কোচের নজর কেড়েছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও দলের কিছু মৌলিক দুর্বলতার কথা লুকাননি ডুলি। তিনি স্পষ্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে টিকে থাকতে হলে বলের নিয়ন্ত্রণ (ফার্স্ট টাচ) এবং পাসিং-রিসিভিংয়ের মতো সাধারণ বিষয়গুলোতে আরও নিখুঁত হতে হবে। একই সঙ্গে গোল করার জন্য বাংলাদেশ দল এখনও অনেক বেশি সুযোগ নষ্ট করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ম্যাচে চিন্তার কারণ হতে পারে।
আরবিএন