দীর্ঘ এক বছরের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক তদন্তের পর জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালা ও চিকিৎসা শাস্ত্রের সুপারিশ অনুযায়ী নারী বিভাগে তাদের অংশগ্রহণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ইতোপূর্বে অর্জিত সকল জাতীয় রেকর্ড ও পদক বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে সেনাবাহিনীর নিবন্ধিত অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও নৌবাহিনীর কবিতা রায়ের লিঙ্গ নিয়ে স্ব-স্ব সংস্থার পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে। পরবর্তীতে ফেডারেশন বিষয়টি সুরাহার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। গত ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের মে মাসে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জান্নাত বেগম (২৮) ও কবিতা রায়ের (১৯) হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় ‘৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি’ (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে। বিজ্ঞ বোর্ডের মতানুযায়ী উভয়েরই পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং জননগ্রন্থি (গোনাড) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে চিকিৎসায় জান্নাত বেগমের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ nmol/L (নির্ধারিত সীমার প্রায় ৮ গুণ) এবং কবিতা রায়ের ১৬.৫০ nmol/L (নির্ধারিত সীমার সাড়ে ৬ গুণের বেশি) পাওয়া যায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার রিলে ইভেন্টে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়। তাদের বাতিল করা পদকসমূহ পর্যায়ক্রমিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী অ্যাথলেটদের মাঝে পুনঃবণ্টন করা হবে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটিই প্রথম। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন।
সময়ের আলো/টিকে