বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ডান পায়ের সোলিয়াস পেশির চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালেরদি। শনিবার (৬ জুন) আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক মার্সেইয়ের হয়ে চলতি মৌসুমে ৩৬টি ম্যাচ খেলে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক। তার এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই কোচ লিওনেল স্কালোনির ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন ছোঁয়ার ঠিক আগমুহূর্তেই চোটের কারণে ছিটকে যেতে হলো তাকে। এএফএ এক বিবৃতিতে বালেরদির দ্রুত আরোগ্য কামনাও জানিয়েছে।
বালেরদির এই ছিটকে যাওয়া আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের গভীরতায় বড় একটি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বিশ্বকাপে কন্ডিশন, ভ্রমণ এবং ম্যাচের চাপ বিবেচনায় প্রতিটি পজিশনে বিকল্প খেলোয়াড় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলা বালেরদি মূল একাদশের নিয়মিত সদস্য না হলেও রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ হিসেবে স্কালোনির পরিকল্পনায় ছিলেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বালেরদির বিকল্প হিসেবে স্কালোনি কাকে দলে ডাকবেন। আর্জেন্টিনা এখনো তার বদলি খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করেনি। তবে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মধ্যে কোচিং স্টাফকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার হন্ডুরাসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপের আগে দলের ফিটনেস ও কৌশল যাচাইয়ের এই ম্যাচের দিনেই বালেরদির চোটের খবর নিশ্চিত হওয়ায় শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর আগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি নিয়েও সতর্কতা ছিল। মেসি ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরলেও বালেরদির ছিটকে যাওয়া স্কালোনির জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিটি দলই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বাড়তি অনুপ্রেরণা নিয়ে মাঠে নামবে। তাই বালেরদির বিদায়ের পর রক্ষণভাগের ভারসাম্য দ্রুত পুনর্গঠন করাই এখন স্কালোনির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আরবিএন