রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। ঘটনাটি ঘিরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, হাসপাতালের তদারকি এবং চিকিৎসা অবহেলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দায়ের করা রিটে প্রতিটি নবজাতকের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনও জানানো হয়েছে।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামে।
আরও পড়ুন
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবজাতকদের রাখা ওয়ার্ডটি চিকিৎসা মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথ ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, আলোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত সুবিধার ঘাটতি ছিল। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি এবং তদারকিতেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠে এসেছে।
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাবৃত্তি এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের কিছু সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস জানানো হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপও থাকতে পারে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এএডি/