বিশ্ববাজারে টানা দরপতনের কারণে স্বর্ণের বাজারে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম আরও সমন্বয় করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমূল্যের চাপে থাকা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। এর আগে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়, যা কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়াতে পারে। সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে দামের ওপর।
আরও পড়ুন
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সুদের হারসংক্রান্ত প্রত্যাশা মিলিয়ে স্বর্ণের বাজারে চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিও স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ক্রেতা দেশ চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা ১৯ মাস ধরে স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যপতন ঠেকাতে এই চাহিদাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেনি।
ভারত ও চীনের মতো বড় বাজারগুলোতেও স্বর্ণ কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। দামের অস্থিরতার কারণে অনেক ক্রেতা আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। ফলে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ৬ জুন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হ্রাস করা হয়। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়।
এএডি/