মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইরানে একযোগে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়। তবে হামলার তীব্রতা, সুনির্দিষ্ট স্থান বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি তেল আবিব।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তেহরান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ শহরের নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসফাহানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই বিবরণ এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।
তেহরান ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত দুটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে আইডিএফ মূলত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করায় তেহরানের মূল বেসামরিক ও নগর এলাকায় সরাসরি কোনো আঘাত হানেনি।
এদিকে এই বিধ্বংসী বিমান হামলার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের ওপর পাল্টা আঘাত না হানার জন্য তীব্রভাবে চাপ দিচ্ছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বারণ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু প্রশাসন যেভাবে হামলা চালিয়েছে, তা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বিমানগুলো যখন বোমাবর্ষণ করছিল, ঠিক তখনই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আইএডিএস) সেই হুতি হুমকিকে প্রতিহত ও ভূপাতিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অন্য দিকে, ইসরায়েলের বুকে নতুন করে হামলা চালানোর পর পরই ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান প্রধান বিমানবন্দরের সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
/কহু