নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকালে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৭ জন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদল পরের তিন শনিবার একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে ফিরে আসার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়।
এসব ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলা রুজুর পর শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত ও অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের শুক্রবারের কর্মসূচির প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদল একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে আসার পথে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগের একটি অফিস ঘর ও বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়। বর্তমানে নোয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সময়ের আলো/জোই