শিক্ষার্থীদের চিরাচরিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার গণ্ডি থেকে বের করে সৃজনশীল, উদ্ভাবনী এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘মাউশি’ মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নতুন উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন।
মাউশি ডিজি জানান, আগামী ২৮ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে একটি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। সরকারের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য উন্নয়ন, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির নিয়মানুযায়ী প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক থাকবেন। আগামী ১২ জুন উপজেলা বা থানা পর্যায়ে এবং ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে এই শোকেসিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানে নিজেদের তৈরি স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
ড. সোহেল বলেন, এসব আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় নানাবিধ সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম হবে। জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান থেকে সেরা ১০ দলকে বিশেষ ট্রফি দেওয়া হবে এবং বিজয়ী শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকাসহ সম্মাননা সনদপত্র পাবেন।
এর পাশাপাশি একই দিনে দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদরাসাসহ মোট ২৯ হাজার can৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
মাউশির বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কার্যক্রমের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি গাছ রোপণসহ সচেতনতামূলক র্যালি পরিচালনা করা হবে। আগামী ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী একটি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করার পর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
অনুষ্ঠানটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সচিব ও মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/টিএইচ