লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে মদ বিক্রির অনুমতি দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন প্রায় ৪৭ বছর পুরনো নিষেধাজ্ঞায় বড় পরিবর্তন এনেছে। ৫ জুন থেকেই নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এতদিন ১৯৭৯ সালের একটি নীতিগত ব্যবস্থার কারণে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মদ বিক্রি কার্যত নিষিদ্ধ ছিল।
লাক্ষাদ্বীপ মূলত মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল, যেখানে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এতদিন সেখানে মদ্যপান ও মদ বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। যদিও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা সবসময় একেবারে সর্বব্যাপী ছিল না—কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় ছিল। যেমন পর্যটক, সরকারি কর্মী এবং বিশেষ লাইসেন্সধারীদের জন্য সীমিত পরিসরে মদ সরবরাহের সুযোগ রাখা হতো। বিশেষ করে নির্দিষ্ট রিসোর্ট বা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এই সুবিধা দেওয়া হতো।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন নির্দিষ্ট লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে সাধারণভাবে মদ বিক্রির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করা।
গত কয়েক বছরে লাক্ষাদ্বীপকে পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা গেছে। সরকারের ধারণা, বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা বাড়াতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে মদ বিক্রির বিধিনিষেধ শিথিল করাকে একটি “পর্যটন-বান্ধব নীতি” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানও এই যুক্তিকে সমর্থন করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়। ২০২০ সালে যেখানে লাক্ষাদ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজারের মতো, ২০২৪ সালের মধ্যে তা বহুগুণ বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের পর দ্বীপগুলোর প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও বাড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারকদের ধারণা, পর্যটনের দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে অবকাঠামো ও পরিষেবা— দুটোকেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা দরকার। তারই অংশ হিসেবে কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। আবার অন্য পক্ষ বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন প্রসারের বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত।
/ইউএমএইচ