৪৮০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে তৈরি করা হোল্ডিং সেন্টার থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪,৮০০ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বাংলাদেশে

2026-06-08T21:42:15+00:00
2026-06-08T21:48:09+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
৪৮০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬ জন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম  আপডেট: ০৮.০৬.২০২৬ ৯:৪৮ পিএম  (ভিজিট : ১৯)
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে তৈরি করা হোল্ডিং সেন্টার থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪,৮০০ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছে। এখনও ৫৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় পড়েন না, তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘদিন সরকারি হেফাজত কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বহন করেছে রাজ্য। 

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলার হোল্ডিং সেন্টারগুলি থেকে প্রায় ৪,৮০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ৮৩৬ জনকে শীঘ্রই প্রত্যাবাসন করা হবে। 

উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসী স্বেচ্ছায় রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। 

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তার মতে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচার-ইস্যু ছিল। 

তিনি আরও জানান, রাজ্যে জনগণনা সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা চালানো হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ হওয়ার কথা এবং তার পরেই শুরু হবে নতুন করে কেন্দ্র ও বিধানসভা আসনের সীমানা নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) প্রক্রিয়া।

সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় ইতোমধ্যেই ৫০ লক্ষ নারী ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। 


তিনি জানান, প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই ২৮ লক্ষেরও বেশি নারী এই সুবিধা পেয়েছেন। সুবিধাভোগীদের যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ সঠিক ব্যক্তির হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

তার দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় প্রায় ২৭ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষও ওই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।  

এই অনিয়মকে বিপজ্জনক দুর্নীতি বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তে একাধিক অনিয়ম সামনে এসেছে এবং বহু তৃণমূল নেতা, জনপ্রতিনিধি ও দলের পদাধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।  

তার কথায়, যেদিকেই তদন্ত হয়েছে, সেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। মনে হচ্ছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেই জেলে পরিণত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রের সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এর ফলে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৬.৫ কোটি মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে পৌঁছেছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে একাধিক নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশের সময় আরও বেশ কিছু কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। 



/ইউএমএইচ 



  বিষয়:   পশ্চিমবঙ্গ  মুখ্যমন্ত্রী  অভিবাসী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: