উত্তর কোরিয়া টিকে থাকতে চীনের ওপর নির্ভরশীল, তবে বেইজিং কেন পিয়ংইয়ংকে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং কোরিয়ান উপদ্বীপে তার প্রভাব আরও শক্ত করতে চায়

2026-06-08T19:19:59+00:00
2026-06-08T19:19:59+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
উত্তর কোরিয়া টিকে থাকতে চীনের ওপর নির্ভরশীল, তবে বেইজিং কেন পিয়ংইয়ংকে চায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম   (ভিজিট : ১১)
চীনে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের দিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং করমর্দন করেন। ছবি : আল-জাজিরা
উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং কোরিয়ান উপদ্বীপে তার প্রভাব আরও শক্ত করতে চায় বলে বিশ্লেষকদের মত। 

চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বহু পুরোনো— কোরিয়ান যুদ্ধের সময় থেকে শুরু। তখন থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যদিও সময়ের সঙ্গে নানা টানাপোড়েনও দেখা গেছে। 

চীন–উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে চীন উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করেছিল। সেই যুদ্ধে আনুমানিক ২ লাখ থেকে ৪ লাখ চীনা সেনা নিহত হয়। 

এরপর ১৯৬১ সালে দুই দেশ বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়—উত্তর কোরিয়ার ওপর আক্রমণ হলে চীন সামরিকভাবে সহায়তা করবে। 

তবে সম্পর্ক সবসময়ই সরল ছিল না। ১৯৮০-এর দশকে চীন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ায় এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর বেইজিং এটিকে উস্কানিমূলক ও স্পষ্ট ভুল পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করে। 

জাতিসংঘ ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে চীনও সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আবার ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কেন

২০১৮ সালের পর চীন আবার পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শুরু করে। একই সময়ে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনায় যায়।

২০১৮ সালে শি জিনপিং কিম জং উনকে চীনে আমন্ত্রণ জানান এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ওই সময় কিমও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

২০১৯ সালে শি প্রথমবার পিয়ংইয়ং সফর করেন। পরে দুই দেশ তাদের ১৯৬১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করে।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ছে উত্তর কোরিয়ার

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীন উদ্বিগ্ন উত্তর কোরিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো ও পিয়ংইয়ং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৪ সালে ২৪ বছর পর পিয়ংইয়ং সফর করেন। এতে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও শক্ত হয়।


উত্তর কোরিয়া কতটা চীনের ওপর নির্ভরশীল

উত্তর কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন ও দরিদ্র দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে দেশটির জিডিপি ছিল প্রায় ২৬.৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপি প্রায় ১.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার বৈশ্বিক বাণিজ্য সীমিত। ফলে চীনই তাদের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যই চীনের সঙ্গে হয়। চীন থেকে তারা তেল, খাদ্য, যানবাহন ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আমদানি করে। আর চীনে রফতানি করে মাছ, ধাতু ও কিছু হালকা শিল্পপণ্য। 

চীন কেন উত্তর কোরিয়াকে চায়

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জন্য উত্তর কোরিয়া মূলত একটি কৌশলগত বাফার রাষ্ট্র।

এর মাধ্যমে— যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করলেও চীনের সীমান্তে সরাসরি চাপ পড়ে না, কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, যুদ্ধ বা শরণার্থী সংকটের ঝুঁকি কমে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সীমিত থাকে।  

চীন উত্তর কোরিয়াকে সরাসরি মিত্রের চেয়ে বেশি দেখে একটি “কৌশলগত প্রতিবেশী ও বাফার অঞ্চল” হিসেবে।

একজন বিশ্লেষকের মতে, উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়লে লাখ লাখ শরণার্থী চীনে প্রবেশ করতে পারে এবং এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

কিম জং উনের জন্য চীনের গুরুত্ব

উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন শুধু অর্থনৈতিক লাইফলাইন নয়, বরং রাজনৈতিক নিরাপত্তার গ্যারান্টিও। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সীমিত, তাই চীনের ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি।

চীন একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও পিয়ংইয়ংকে সহায়তা করতে পারে।

চীন–উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্ব নয়, বরং এক জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে উত্তর কোরিয়া চীনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, অন্যদিকে চীনও কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য পিয়ংইয়ংকে প্রয়োজন মনে করে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নতুন সম্পর্ক এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে—যেখানে বেইজিং তার প্রভাব হারাতে না চেয়ে আবারও পিয়ংইয়ংকে কাছে টানছে। 

সূত্র : আল-জাজিরা 

/ইউএমএইচ



  বিষয়:   উত্তর কোরিয়া  বেইজিং  পিয়ংইয়ং 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: